Published: May 25, 2020

সৈয়দপুরে সুধীজনদের এবারের ঈদ


জাহিদুল হাসান জাহিদ:-একদিকে কোভিড১৯ করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব অন্য দিকে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আক্রমণে দেশের দক্ষিণের বেশ কয়েকটি জেলা লন্ডভন্ড হয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত মানুষের ঘরবাড়ি।এর ভিতর মুসলিম জাতির প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর।এই ঈদ উল ফিতরে উত্তরবঙ্গের প্রবেশ দ্বার নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার সুধীজনের কেমন গেলো এবারের এই নতুন আঙ্গিকের ঈদ আনন্দ।এই নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় সৈয়দপুরের বিশিষ্ট জনদের সাথে।যেসব সুধী জনদের সাথে কথা হয় তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হলো:-

জনাব মো.মোখছেদুল মোমিন,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান:-এবারের এই ঈদে করোনার কারণে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাকে ঈদ গাহ’র পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়।মানুষের সাথে কোলাকুলি, হাত মিলা মিলিতে বিধি নিষেধ থাকায়।সাধারণ মানুষের সাথে কোলাকুলি না করতে পেড়ে তার বুকের মাঝে দারুণ শুন্যতা অনুভাব করেন। যতো কষ্টই হোক তারপরও তিনি চান সৈয়দপুর উপজেলাবাসি সরকারের দেওয়া স্বাস্হ্য বিধি মেনে ঘরে থাকুক ভালো থাকুক এই কামনা করেন।

জনাব নাসিম আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার:-করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারি দেওয়া স্বাস্থ্য বিধি প্রচার ও স্বল্পো আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণসহ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাকে ব্যস্ত থাকতে হয়।একজন করোনা সম্মুখ যুদ্ধা হিসেবে তিনি এবারের ঈদ সাদামাটা ভাবে উদযাপন করেন।করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তিনি শহরবাসীর সহযোগিতায় কামনা করেন।

জনাব আখতার হোসেন বাদল,সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগ:-করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে স্বল্পো আয়েয় মানুষের কাজ কর্ম বন্ধ।ওইসব মানুষদের খাদ্য সহযোগিতা তারপর আবার ঘুর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য সহ গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন সরকার।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্ত মনোবলের কারণে দেশের কিছু মানুষ হয়তো করোনায় মৃত্যু বরণ করছে।তবে দেশের এই দুর্যোগময় সময় কোনো মানুষ না খেয়ে কিন্তু মৃত্যু বরণ করেনি।তিনি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সৈয়দপুর ইউনিয়নের পয়তাল্লিশটি ও পৌরসভার পনেরো টি ওয়ার্ড মিলে ষাট টি ওয়ার্ডের স্বল্পো আয়ের মানুষের করোনাভাইরাসের শুরু থেকে খাদ্য বিতরণ করে আসছে।তিনি স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাড়ির পাশের মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।সাধারণ মানুষের সাথে কোলাকুলি না করতে পেরে তিনি এবারের ঈদকে বর্ণহীন বলে মন্তব্য করেন।

জনাব,মহসিনুল হক মহসিন, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামীলীগ:-এবারের ঈদে তিনি মানুষের সাথে কোলাকুলি করতে না পারলেও দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মুঠোফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিষয়ে বলেন, একটি কুচক্রী মহলের ইশারায় উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না। করোনা বিষয়ে সৈয়দপুরের মানুষ তেমন সচেতন নয় বলে মন্তব্য করেন।তারপরও তিনি ও তার দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে চেষ্টা করছেন।

জনাব, মোজাম্মেল হক,সাধারণ সম্পাদক, পৌরসভা আওয়ামীলীগ:-স্বাস্থ্য বিধি মোতাবেক তিনি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করতে তিনি তার দল কাজ করে যাচ্ছে।

জনাব,আবুল হাসানাত খান,ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি):-করোনার সম্মুখ যুদ্ধা পুলিশ তার এক বন্ধু করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করায় তার মন দুঃখ আক্রান্ত হয়ে আছে। তিনি এই ঈদ আমেজহীন বলে মনে করেন।সৈয়দপুর শহর ঘনবসতি হওয়ায় মানুষদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে।তারপরও তিনি সৈয়দপুরের মানুষকে সচেতন করতে তাদের দায়িত্ব অব্যহত রয়েছে।

জনাব,ইন্জিনিয়ার রাশেদুজ্জামান রাশেদ,সদস্য উপজেলা আওয়ামীলীগ:-সৈয়দপুরের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও সৎ রাজনীতির আইকন খ্যাত ইন্জিনিয়ার রাশেদজ্জামান রাশেদ এই ঈদকে ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ বলে মনে করেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে বিত্তবান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যেভাবে দেশের অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছে অবশ্যই আল্লাহর রহমতে করোনা প্রতিরোধ হবে বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *