Published: January 9, 2020

সৈয়দপুরে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তির রক্ষকই ভক্ষক


নর্থবেঙ্গলনিউজ,নিজেস্ব প্রতিনিধি:-নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা যেন রক্ষক হয়েও ভক্ষকে পরিণত হয়েছেন। যে কারণে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকদের বসবাসের জন্য নির্মিত কোয়াটার রেলওয়ে কারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা শ্রমিকরা না পেলেও তাতে অনায়াসে বসবসা করছে বহিরাগতরা।

বসবাসের অযোগ্য (ড্যামেজ) ঘোষণা করা হলেও তা বহিরাগতদের দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেসাথে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের নামে বরাদ্দ দেয়া হলেও তাতে বসবাস করছেন অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মচারীসহ বহিরাগতরা। অথচ অর্থ কর্তন করা হচ্ছে বরাদ্দপ্রাপ্ত শ্রমিকের বেতন থেকে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক শ্রমিক। তারা এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না দীর্ঘদিন থেকে।

ভুক্তভোগী এমন একজন রেলওয়ে কর্মচারী জানান, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিগত ২০১৬ সালের প্রথম দিকে সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ এলাকায় একটি কোয়াটার বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। যার নং এল-৪৩। কিন্তু কোয়াটারটি পছন্দ না হওয়ায় বরাদ্দ বাতিল করার জন্য বলি। এসময় কর্তৃপক্ষ জানায় তাৎক্ষনিক এটি বাতিল করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে কোয়াটারটি একই কারখানার ওয়েল্ডিং শপের কর্মচারী আব্দুল সালাম খন্দকারকে ভাড়া দেই। ওই সময় তিনি অবসরকালীন ছুটি (এলপিআর) এ ছিলেন।

একারণে তার নামে কোয়াটারটি বরাদ্দ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ওই বছরের শেষ দিকে আব্দুস সালাম খন্দকারের এলপিআর শেষ হলে তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে অবসরে যান। এসময় আবারও আমার নামের বরাদ্দ বাতিলের আবেদন করি। এতে কারখানার ব্যারাক মাস্টার সাইফুল ইসলাম কোয়াটার বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে বলে জানালেও দীর্ঘ দিনেও এ সংক্রান্ত কোন ক্লিয়ারেন্স না দেয়ায় এখনও আমার বেতন থেকে কোয়াটার বাবদ ৬ শ’ টাকা কর্তন করা হচ্ছে।

অথচ কোয়াটারটি আমি ব্যবহার বা ভাড়া দিতেও পারছিনা। একারণে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। এদিকে ওই কর্মচারী অভিযোগ করেন যে, ব্যারাক মাস্টার ও স্থানীয় রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (আইওডাব্লু) তহিদুল ইসলাম ওই কোয়াটারটিকে বসবাসের অনুপযোগী (ড্যামেজ) দেখিয়ে তাতে ভাড়াটিয়া আব্দুস সালাম খন্দকারকেই বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থের লেনদেন হয়েছে।

এ ব্যাপারে আব্দুস সালাম খন্দকারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শুধু আমিই এখানে এভাবে বসবাস করছিনা। বরং এখানকার প্রায় ১২টি কোয়াটাররের প্রত্যেকটিতেই মানুষ বসবাস করছে। প্রত্যেকেই আইওডাব্লু ও ব্যারাক মাস্টারকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই রয়েছে।

তারা কোয়াটারগুলোকে ড্যামেজ হিসেবে দেখিয়ে কর্তৃপক্ষকে সে ধরণের প্রতিবেদন দিয়েছে। ফলে এখানে বহিরাগতরা বসবাস করলেও এব্যাপারে রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন সমস্যা করছেনা।

একটি সূত্র মতে, সৈয়দপুর শহরের প্রায় সিংহভাগ রেলওয়ে কোয়াটার এভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসেই বহিরাগতরা দীর্ঘ দিন থেকে দখল করে বসবাস করে চলেছেন। কারখানায় বর্তমানে মাত্র ৯ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই নিজস্ব বাসা বাড়িতে থাকে। অথচ এ শহরে কোয়াটার রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫ শতাধিক। ফলে অধিকাংশ কোয়াটারই বরাদ্দের বাইরে থাকে।

এ সুযোগে বহিরাগতদের দিয়ে তা থেকে পকেট মানি হাতিয়ে নিচ্ছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা। ফলে রক্ষকই ভক্ষকে পরিনত হয়েছে বলে ব্যাপক প্রচারণা রয়েছে সৈয়দপুরে।

বিষয়টি নিয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ব্যারাক মাস্টার সাইফুল ইসলামের সাথে তার কার্যালয়ে কথা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি আপনাদের কোন তথ্য দিতে পারবোনা।

রেলওয়ে হাউজিং সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কস ম্যানেজার (ডাব্লু এম) ভালো বলতে পারবেন। অথবা এ ব্যাপারে রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (আইওডাব্লু) এর সাথে কথা বলতে পারেন।

সৈয়দপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (আইওডাব্লু) তহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কোন শ্রমিকের নামে বরাদ্দকৃত কোয়াটার বাতিল হয়ে থাকলে তার বেতন থেকে টাকা কাটার কথা নয়। তারপরও যদি এমনটি হয়ে থাকে তা ওই শ্রমিকের ব্যর্থতা আমাদের কোন দায়িত্ব নেই। তবে তিনি যদি আমার কাছে এসে তার বরাদ্দ বাতিলে কাগজপত্র দেখাতে পারেন তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যিনি বর্তমানে ওই কোয়াটারে বসবাস করছেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল কিন্তু একজন শ্রমিক নেতার কারণে তা করতে পারিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কস ম্যানেজার (ডাব্লু এম) শেখ হাসিনুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, কারখানার কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের কোন অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধ নিশ্চিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমি এখানে নতুন। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *