Published: September 4, 2019

সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমিতে বসবাসকারীদের সংগঠন অধিকার’এর সংবাদ সম্মেলন


জাহিদ-রেলওয়ের জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ নয়, বরাদ্দ-বন্দোবস্ত চাই দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৈয়দপুর রেলভূমিতে বসবাসকারীদের সংগঠন অধিকার এর নেতাকর্মীরা।
বুধবার(৪ সেপ্টেম্বর )সকাল ১১টায় শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক সড়কের রেলওয়ে পুলিশ ক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় রেলভূমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ না করে বসবাসরত রেলভূমি বরাদ্দ দেয়ার দাবী জানিয়ে বক্তব্য দেন, সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও অধিকার সংগঠনের সভাপতি মোখছেদুল মোমিন, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ তাসলিম, অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন খোকন ও পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। বক্তব্যে ওই সংগঠনের সভাপতি মোখছেদুল মোমিন সহ বক্তব্যে বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারতের উড়িষ্যা, বিহার ও পশ্চিম বঙ্গের প্রচুর সংখ্যক বিহারী ও বাঙ্গালী সৈয়দপুরে এসে রেলওয়ে কারখানায় কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। পাশাপাশি ঘরবাড়ী স্থাপন করেন বসবাসের জন্য। একই সাথে রেলওয়ে জমিতে গড়ে তোলা হয় ৩০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ৩৫টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবন, গোলাহাট কবরস্থান ও ২২টি বিহারী ক্যাম্প। দীর্ঘ ৭২ বছর রেলওয়ের এসব জমিতে তারা বসবাস করে আসলেও আগামী ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রেল বিভাগ সৈয়দপুর শহরের রেলভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার ঘোষণা দেওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছে তারা। আর এটি বাস্তবায়ন করা হলে শহরের প্রায় ২০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে বক্তারা তাদের বক্তবে উল্লেখ করেন। বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, রেলওয়ে ভূমি ৩ শ্রেণিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। প্রথমত হলো, বর্তমান রেলওয়ের প্রয়োজন। দ্বিতীয়, ভবিষ্যতে রেলওয়ের প্রয়োজন ও তৃতীয় হলো, যে জমি রেলওয়ের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি ওই নীতিমালায় বাণিজ্যিক, কৃষি, মৎস্য, নার্সারী ও রিফুয়েলিং ষ্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্টানের ক্ষেত্রে টোকেন ফি নির্ধারণের মাধ্যমে বরাদ্দ প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নীতিমালায় আবাসিক কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ না থাকায় উচ্ছেদ নোটিশ পেয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছে শহরবাসী। বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ানমার থেকে আগত ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার অন্যন্য নেতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। একইভাবে সৈয়দপুরের রেলওয়ের জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ না করে তাদের বসবাসরত ভূমি স্বল্প মূল্য বরাদ্দ/বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থা করলে বিরল হয়ে থাকবে বলে তারা উল্লেখ করেন।ওইসময় সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ৫ সেপ্টেম্বর  তামান্না সিনেমা হলের সামনে অধিকারের ডাকে জনসভা এবং ১৪ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি কর্মসূচীতে রেলওয়ের জমিতে বসবাসকারী সকলকে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *