Published: March 29, 2020

করোনাভাইরাস কি অভিশাপ !


জাহিদুল হাসান জাহিদ:সাম্প্রতিক পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া করোনাভাইরাসের তান্ডব নিয়ে নানা ধরনের মতবাদ শোনা যাচ্ছে।কেউ বলছে আল্লাহর গজব।কেউ বলছে মানুষের পাপের ফসল।কেউ বলছে চীন দ্বারা এই ভাইরাস ছড়ানো হয়েছে।
সারা বিশ্বের আতঙ্ক ও আলোচার নাম এখন করোনাভাইরাস।করোনা হয়তো কোনো বৈজ্ঞানিক নাম।তবে করোনাভাইরাস মানব সৃষ্ট কি না এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আবিস্কার করতে পারেনি।
সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সবকিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন।এর মধ্যে কিছু কিছু জিনিস মানুষের নিয়ন্ত্রণেও দিয়েছেন।যা বিশ্লেষণ করে জ্ঞানীরা পৃথিবীর মানুষের মঙ্গল সাধন করতে পারে।জীবাণু,ভাইরাস এসবই প্রকৃতির সৃষ্টি।এসব সৃষ্টিকে দার্শনিক বা বৈজ্ঞানিক গন বিশ্লেষণ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানুষের ভালো বা মন্দ কাজে ব্যবহার করে থাকে।
এই ভাইরাস নিয়ে বিদেশি দুইজন লেখকের বইয়ের কথা বলতে হয়।লেখক ডিন ক্রোন্স ১৯৮১সালে একটি বই লেখেন “the Eyes of Dakness”এবং আর একজন লেখক সিলভিয়া ব্রোনী ২০০৮ সালে লেখেন End of Days বই।এই দুইটিতে বইয়ে বলা হয়েছে ২০২০ সালে উহান ৪০০ নামে একটি ভাইরাস বাহির হবে।ওই ভাইরাসটি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে এবং ভাইরাসটি শুধু মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।অন্য কোন প্রাণীর শরীরে ছড়াবে না।আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট হয়ে চার দিনের মধ্যে মৃত্যু বরণ করবে।এই ভাইরাসের কোন ঔষধ বা প্রতিশেধক পাওয়া যাবে না।ভাইরাসটি দশ বছর পর আবার আসবে এবং আবার নিজে চলেও যাবে।বই দুইটি এইভাবে লেখা হয়েছে।
যেখানে আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা:)১৪০০হিজরীর পর পৃথিবীতে কি ঘটবে তিনি ভবিষ্যৎ বানী করে জাননি।
সেখানে দুইজন লেখক ২০২০ সালে পৃথিবীতে কি ঘটবে, তা কয়েকবছর আগে তাদের বইয়ে লিখেছেন।এখানে প্রশ্ন উঠা সাম্ভাভিক।তারা হয়তো বায়োলোজী কেমিস্ট্রের নিকট থেকে তথ্য পেয়েছেন।না হয় এই ভাইরাস ছড়ানো পরিকল্পনার সাথে তারা জড়িত ছিলেন।তা না হলে তাদের বইয়ে কিভাবে ২০২০সালে ভাইরাসের তান্ডবের কথা উল্লেখ করলো।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯মার্চ এক ভাষণে বলেন, চীন সারা পৃথিবীতে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে।তিনি এই ভাইরাসকে করোনাভাইরাস বলতে নারাজ।তিনি এই ভাইরাসের নাম দিয়েছেন চায়নিজ ভাইরাস।চীনের উহান থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য তিনি চীনকে দায়ী করেন।
চীন এই ভাইরাস ছেড়েছে কি না তা ভবিষ্যতে জানাযাবে।করোনাভাইরাস আল্লাহর প্রদত্ত অভিশাপ কি না এইটা বলা যেমন কঠিন।আবার মানব দ্বারা ছড়ানো হয়েছে কি না তাও নিশ্চিত করে বলা যাবে না।তবে এই করোনাভাইরাস পৃথিবীতে এখন মহামারী ভাবে দেখা দিয়েছে।
করোনাভাইরাস যেভাবে হোক।এতে নিশ্চয় আল্লাহতায়ালার কোনো মহিমা লোকায়িত রয়েছে।এমনটাই তার পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আমি কুষ্ঠ রোগ,ধবল রোগ ও মহামারী দিয়ে পৃথিবীর কিছু মানুষকে ধংস করবো।অতি বৃষ্টি,রোধ দিয়ে খাদ্যশস্যর কিছু ক্ষতি করবো।রোগব্যাধি দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করবো।আবার যথারীতি সব ঠিক করে দিবো।পৃথিবী হচ্ছে মোমেনদের জন্য পরীক্ষা ক্ষেত্র।পৃথিবী কখন কিভাবে ধংস সংঘটিত হবে তা শুধু একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই ভালো জানেন।তার চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই।
সৃষ্টিকর্তা সবসময় বান্দার মঙ্গল চান।আর তিনি যা করেন বান্দার মঙ্গলের জন্য করেন।আল্লাহর শাস্তি থেকে কেউ পালাতে পারবেন।আল্লাহ যদি কারো মৃত্যু নির্ধারণ করে রাখেন।সে মাটির গভীরে পালালেও তাকে মৃত্যুর হাত থেকে কেউ বাঁচতে পারবে না।সৃষ্টিকর্তার শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে।তার নির্দেশিত পথে চলতে হবে প্রতিটি মানুষকে।মানুষের হায়াৎ মউত রিজিক থেকে শুরু করে সব ধরনের বিষয়ে আল্লাহতায়ালা তার পবিত্র কোরআন শরীফে ঘোষণা করেছেন।এখানে উল্লেখ করে রাখছি।করোনাভাইরাস আল্লাহর প্রদত্ত আর্শীবাদ বা অভিশাপ যাই হোক না কেনো এখানে জ্ঞানীদের জন্য বুঝার ও জানার অনেক কিছু রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *