সৈয়দপুরে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলার শুভ উদ্বোধন

নর্থবেঙ্গল নিউজ। নীলফামারীর সৈয়দপুরে তিনদিন ব্যাপী লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২৭ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টায় স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশ ক্লাব প্রাঙ্গণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়।

মেলার উদ্বোধক ছিলেন, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হুসাইন, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি প্রকৌশলী এসএম সফিকুল আলম ডাব্লু।

প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক ও সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি পৌর কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট বিজনেস প্রমোসন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

সৈয়দপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর ও দিনাজপুরের বাইশিমাস সভাপতি ও পরিচালকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। মেলায় সৈয়দপুরের প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরীকৃত মেশিনারিজ পন্য তথা বিভিন্ন প্রযুক্তি শিল্প যন্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান  বিপিএম, পিপিএম এর উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

কিন্তু অনিবার্য জরুরী কারণে তাঁরা আসতে পারেননি বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাঁরা মেলা চলাকালে পরিদর্শন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হুসাইন।

আয়োজকরা জানান, একসময় ঢাকার জিঞ্জিরার পরই ছিল সৈয়দপুরের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের অবস্থান। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারী সহযোগীতার অভাব এবং ব্যাংকগুলোর বিমাতাসূলভ আচরণের কারণে এই ক্ষেত্রটি ঐতিহ্য হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছেছিল।

বাইশিমাস সৈয়দপুর সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, পরবর্তীতে বাইশিমাস গঠনের মাধ্যমে এর উদ্যোগে আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে সম্ভাবনাময় এই শিল্প। সৈয়দপুরেই প্রায় অর্ধ শতাধিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বমানের মেশিনারী যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরী করছে। এমনকি কিছু কিছু মেশিন বিদেশেও যাচ্ছে।

এর ফলে যেসব সামগ্রী বিদেশ থেকে বেশি দামে এনে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করতে হতো, তা এখন অর্ধেকেরও কমমূল্যে আমরাই সরবরাহ করছি। এতে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের উৎপাদিত পন্য টেকসই হওয়ায় বার বার সংষ্কার বা মেরামতের বাড়তি খরচ থেকেও রেহাই পাচ্ছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

রয়েলেক্স মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ’র মালিক ও চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি রাজ কুমার পোদ্দার আক্ষেপ করে বলেন, নিজস্ব উদ্যোগে এত পরিবর্তন আনার পরও পিছু ছাড়ছেনা পূর্বের সেই অবহেলা আর অসহযোগীতা।

অথচ রেলওয়েসহ দেশীয় সরকারী বৃহৎ শিল্পে যদি আমাদের মালামাল সরাসরি সরবরাহের সুযোগ পাওয়া যেতো তাহলে উভয়পক্ষই লাভবান হতো। তা না করায় মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভের অংশ খেয়ে ফেলছে।

শিল্প উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বাবু বলেন, এছাড়াও কাঁচামালের উপর শুল্ক আরোপসহ নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় এই শিল্পখাতটি বিকশিত হতে পারছেনা।

এইজন্য তারা সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশীয় শিল্প প্রযুক্তি শক্তিশালী হবে বলে জানান মেলা কর্তৃপক্ষ।