ভিজিএফের ৬০ বস্তা চালসহ পিকাআপ আটক

নর্থবেঙ্গল নিউজ। নীলফামারীতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ভিজিএফের চাল সন্দেহে ৬০ বস্তা চালসহ একটি পিকআপ আটক করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৫ মে) দুপুরে জেলা শহরের কালিবাড়ী মোড় এলাকা থেকে আটক করা হয় পিকআপটি। পরে পুলিশ এসে থানায় নেয়।

বিক্ষুদ্ধদের অভিযোগ জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ভিজিএফ এর ওই চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জানান, ঈদুল ফিতর উৎযাপনের জন্য দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ এর চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। ওই চালের একটি অংশ ইউপি চেয়ারম্যান বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৬০ বস্তা চাল মজুদ করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি পিকআপ করে (ঢাকা মেট্রো ন-১৯-৫৪৭৮) ওই চাল কালো বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে জেলা শহরে নিচ্ছিলেন। বিক্ষুদ্ধরা পিছু নিয়ে শহরের কালিবাড়ী মোড় এলাকায় পিকআপটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে চালসহ পিকআপটি থানায় নেয়।

চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বোতলাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান জুন মুঠোফোনে জানান, ‘১০ কেজি করে ৫ হাজার ২১৩ জন উপকারভোগির মাঝে ঈদের চার দিন আগে জনসন্মুখে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পিকআপে করে কার চাল কোথায় যাচ্ছিল সেটি আমি জানি না। প্রতিপক্ষের কিছু মানুষ ওই চাল নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’

এদিকে আটক পিকআপের চালক মিজানুর রহমান জানান, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর সংলগ্ন পোড়ারহাট বাজার থেকে চালগুলো পিকআপে লোড করা হয়েছে। জনৈক বিপুলের কাছ থেকে নীলফামারী শহরের পরেশ এগুলো কিনেছে। লোকজন পিকআপ আটক করলে পরেশ কৌশলে পালিয়ে গেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চাল বিক্রেতা এই বিপুল নামের যুবক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুনের ডানহাত। তার মাধ্যমেই চেয়ারম্যান ওই চালগুলো বিতরণ না করে তসরুপ করেছে। পরে গোপনে সেগুলো বিক্রি করে। বিপুলের সহায়তায় চালগুলো গোপনে সৈয়দপুর থেকে পাচার করতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত নীলফামারীতে ধরা পরেছে।

তারা আরও বলেন, এর আগেও ৩ ট্রাক চাল বিক্রি করেছে এবং আজও ২ পিকআপে চাল পাচার করা হচ্ছিল। এর মধ্যে একটি আগেই চলে গেছে। দ্বিতীয়টি মাহামুদুল হাসান রকির নেতৃত্বে আটক করা সম্ভব হয়েছে। চালক ও ক্রেতা পরেশকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও সঠিক তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে ইউপি চেয়ারম্যানের চাল চুরির সত্যতা।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ উন নবী বলেন,‘ সদর উপজেলার সহকারী কর্মকর্তার (ভূমি) নির্দেশে চালসহ পিকআপটি থানায় নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নীলফামারী সদর উপজেলার সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) মফিজুর রহমান বলেন, ‘চালসহ পিকআপটি থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই চাল কার পুলিশী তদন্ত সাপেক্ষে তা নিশ্চিত হয়ে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।